Tuesday, 18/6/2019 | : : UTC+6
Green News BD

পাহাড়ে হিমাগারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মৌসুমি ফল

পাহাড়ে হিমাগারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মৌসুমি ফল

হিমাগার না থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার মৌসুমি ফল পচে গলে নষ্ট হয়। আহরণ, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সঠিক বিপণনের অভাবে নষ্ট হয় এসব ফল। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন স্থানীয় কৃষক। এতে তাঁরা ফসল উৎপাদনে ক্রমান্বয়ে উৎসাহ হারাচ্ছেন। এই অবস্থায় সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরকে এলাকায় হিমাগার স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষকেরা।

বাগান মালিক তরুণ ত্রিপুরা, ভজন চন্দ্র আসাম, পুতুল চন্দ্র বড়ুয়া জানান, পাহাড়ে হাজার হাজার একর পাহাড়ি টিলাজুড়ে আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, পেয়ারা, লেবু, কলা, সফেদা, জাম্বুরা, জামরুল প্রভৃতি ফলের বাগান রয়েছে। এসব ফল সঠিক পদ্ধতিতে আহরণ করে সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে সারা বছরই ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু হিমাগার না থাকায় ফল পচে গলে নষ্ট হয়। গরিব কৃষক পচনের ভয়ে কম দামে ফসল ছেড়ে দেন। যে কারণে ন্যায্য মূল্য মেলে না।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ের বিভিন্ন বাগানে এক সঙ্গে ফল পাকা শুরু করে। পাকা ফল আহরণ খুবই কষ্টকর তাই অনেক সময় গাছেই পচে নষ্ট হয় এসব ফল। সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় কষ্ট করে কৃষকেরা ফল আহরণে উৎসাহ পান না।

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান কৃষিবিদ ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ বলেন, ‘এই এলাকায় যে পরিমাণ মৌসুমি ফলের উৎপাদান হয় এতে জেম, জেলি, জুস ও বিভিন্ন প্রকার আচারের কারখানা করা যায় অনায়াসে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এলাকায় এখনো এই ধরনের কারখানা গড়ে উঠেনি। কাঁঠাল, আনারস, লিচু, আমসহ বিভিন্ন ফল প্রক্রিয়াজাত করে সারা বছরই সংরক্ষণ সম্ভব। এমনকি দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেত এসব সংরক্ষিত ফলের রস।’

উপজেলার বিভিন্ন অংশ জুড়ে রয়েছে পাহাড়ি টিলা। এসব টিলায় আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, কলা, আনারস, জাম্বুরা, পেঁপে, জামরুল প্রভৃতি চাষ হয়। বিভিন্ন জাতের ফলের ফলনও ভালো। চায়না-১, চায়না-২ ও চায়না-৩ জাতের লিচু অত্যন্ত রসালো ও সুস্বাদু। স্থানীয় বাজারে ১০০ লিচু ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বিভিন্ন জাতের আনারসের মধ্যে হানিকুইন, ক্যালাঙ্গা খুবই ভালো জাতের। দেখতে যেমন চমৎকার খেতেও সুস্বাদু। আর আম্রপালি তো ল্যাংড়া আমকেও হার মানিয়েছে।

রামগড়ের বড় পিলাকের কৃষক মো. আবদুল আলী ও পাগলা পাড়ার মো. হাসেম জানান, পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে ফল বিপণনে কৃষকদের পড়তে হয় নানা সমস্যায়। পাহাড়ের ঢালে, উঁচু টিলায় অবস্থিত বাগানের ফসল ত্রুটিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থা, পরিবহন সুবিধার অভাব এবং বিপণনের পরিবেশ না থাকায় কৃষক সঠিক বাজার মূল্য পান না। পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। ফলে দ্রুত বাজারজাতও করা যায় না। কাঁধে করে, সাইকেল ও রিকশায় এবং ভ্যানগাড়ি ও খোলা জিপে (চাঁদের গাড়ি) নানা প্রকারের মৌসুমি ফল স্থানীয় বাজারে এনে স্তূপাকারে রাখা হয়।

কৃষকেরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অনেক ফসল বাগানে কিংবা মাঝপথে পচে নষ্ট হয়। আর ভাড়ায় গাড়ি নিয়ে সমতল জেলায় পাঠানোও খু্বই ব্যয়বহুল।

এদিকে কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, পাহাড়ি দুর্গম এলাকা থেকে চাষিরা কষ্টকরে বাজারে এনে এসব ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। রয়েছে চাঁদাবাজদের উৎপাতও। বাজারে আনার সঙ্গে সঙ্গে দালাল ও ফড়িয়াদের খপ্পরে পড়তে হয়। দালালদের মর্জির ওপর ফসলের দাম উঠা নামা করে। সবাই একজোট হয়ে দাম হাঁকে। এই অবস্থায় ফসলের বাজারমূল্য অনেক কমে যায়। এতে বঞ্চিত হয় কৃষকেরা। উল্টো রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার স্থানীয় কর। নিরূপায় কৃষক তখন কম মূল্যেই ফসল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। না হয় থাকে পচে যাওয়ার ভয়। কেবল হিমাগার না থাকায় কৃষকদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

জুন 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« মে    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

ছবি ঘর