Sunday, 25/8/2019 | : : UTC+6
Green News BD

তাড়াশ-রায়গঞ্জে অবৈধ ৪৭টি ইটভাটা,বিপাকে এলাকাবাসী

তাড়াশ-রায়গঞ্জে অবৈধ ৪৭টি ইটভাটা,বিপাকে এলাকাবাসী

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় যথাক্রমে ৯ ও ৫৪টি (মোট ৬৩) ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে তাড়াশ উপজেলায় দুটি এবং রায়গঞ্জ উপজেলায় ১৪টি। বাকি ৪৭টি ভাটা জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বৈধ ও অবৈধ ভাটা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন করছে।

তাড়াশ উপজেলা ভাটা মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯টির মধ্যে পরিবেশসম্মত জিগজ্যাগ চিমনির ভাটা রয়েছে ছয়টির।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সব কটি ইটভাটার ভেতরে উঁচু উঁচু স্তূপ করে রাখা হয়েছে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের ছোট-বড় অসংখ্য গুল ও ডালপালার অংশ। সেখান থেকে চলমান ভাটার চুল্লিতে ফেলছে কয়েকজন শ্রমিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রমিকরা জানায়, ইট পোড়ানোর কাজে ভাটার মালিকরা দেদার জ্বালানি কাঠ ও অতি নিম্নমানের কয়লার ব্যবহার করছে। একটি বড় ভাটায় একবারে চার থেকে সাড়ে চার লাখ ইট পোড়াতে ২৫ দিনের মতো সময় লাগে। আর কমপক্ষে ১০ হাজার মণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়।

সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে, ৯টি ভাটাই সরকারি রাস্তার গা ঘেঁষে কৃষিজমি নষ্ট করে স্থাপন করা হয়েছে। শুধু ছয় কিলোমিটার তাড়াশ-কালীবাড়ী গ্রামীণ সড়কের সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি ভাটা। দুটি ভাটা খালকুলা-নওগাঁ গ্রামীণ সড়কের পাশে। অন্য দুটি তাড়াশ-নিমগাছি আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে। আর প্রতিটি ভাটার কাছেই রয়েছে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসহ কয়েক শ পরিবারের বসবাস। রয়েছে ফসলের মাঠ। ওই তিনটি রাস্তায় দিনরাত ইটবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করায় কার্পেটিং উঠে ইটের সোলিং নষ্ট হয়ে রাস্তাগুলো খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কের ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়ে আছে আশপাশের বসতবাড়ি। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় মরে যাচ্ছে ফসল। শুধু তা-ই নয়, প্রতিটি ভাটায় শিশুরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। তারা বেশির ভাগ ইট তৈরি করছে। আবার কেউ কেউ ইট মাথায় করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। ভাটায় কর্মরত সাব্বির হোসেন, আতিকুর রহমান ও আব্দুল্লাহ জানায়, তাদের অনেকের মা-বাবা ভাটা মালিকদের কাছ থেকে দাদন নেওয়ায় তারা পড়ালেখা বাদ দিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। সততা ব্রিকস ও মেঘনা ব্রিকসের মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ গজ দূরেই দক্ষিণে ঝুরঝুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পশ্চিমে মাধাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধাইনগর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও মাধাইনগর আদিবাসী মহাবিদ্যালয়। আর সাদিয়া ব্রিকসের কাছেই ক্ষিরপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ওই চারটি বিদ্যালয়ে তিন হাজারের মতো ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের পাশের ইটভাটার চিমনি থেকে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত হওয়ায় তাদের চোখ জ্বালাপোড়া করে। ভারী যানবাহন ও ইট তৈরির যন্ত্রের বিকট শব্দে শিক্ষকের কথা তারা শুনতে পায় না। ধুলাবালি আর ধোঁয়ার কারণে তাদের সারা বছর সর্দি-কাশি লেগেই থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন বলেন, জিগজ্যাগ চিমনির ভাটার চুল্লিতে আগুন দেওয়ার সময় ৪০০ থেকে ৪৫০ মণ জ্বালানি কাঠের প্রয়োজন পড়ে। তাই কাঠ পোড়াতে হয়। ভাটাগুলো নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট রয়েছে। তা ছাড়া জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডে টাকা দিয়ে ইট পোড়ানো হয়।

তবে এলআর ফান্ডে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় উৎসবগুলোতে বিভিন্ন জায়গা থেকে সহায়তা নেওয়া হয়। এর সঙ্গে ভাটার কোনো সম্পর্ক নেই।’

রায়গঞ্জ উপজেলাতেও একই চিত্র বিদ্যমান। এ উপজেলায় সর্বাধিক ভাটা রয়েছে চান্দাইকোনা ও ধামাইনগর ইউনিয়নে। এলাকাটি বরেন্দ্র অধ্যুষিত এবং তিন ফসলি অঞ্চল। চলতি মার্চে উপজেলার চকনূর বৈকুণ্ঠপুর পদ্মা ব্রিকসের নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ে গেছে তিন শতাধিক ক্ষেতের বোরো ধান। এ অঞ্চলের ফসল, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় ইটভাটা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে রায়গঞ্জ উপজেলা ক্ষেতমজুর সমিতি ও কৃষক সমিতি।

রায়গঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শোভন সরকার বলেন, ‘ভাটা মালিকরা ছাড়পত্র পেতে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করে রেখেছেন। এ প্রক্রিয়াতেই এসব ভাটা পরিচালিত হচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুল হক বলেন, ‘এসব ভাটা কৃষি অধিদপ্তরের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া অবৈধভাবে ফসলি জমির মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। উর্বর জমির টপসয়েল কেটে ইট তৈরি করায় ফসল উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একবার টপসয়েল নষ্ট হলে ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায় তা পূরণ হতে।’

সিরাজগঞ্জ জেলা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক বুলবুল আহম্মেদ জানান, কারখানার আইন অনুযায়ী ১২ বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনো কাজে নিয়োগ দেওয়া অপরাধ। পরিদর্শন করে প্রমাণ পাওয়া গেলে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়, বগুড়া অঞ্চলের পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত এসব ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« জুলাই    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

ছবি ঘর