Sunday, 25/8/2019 | : : UTC+6
Green News BD

বিলুপ্তির পথে থাকা দেশীয় গাছ সংরক্ষণের নির্দেশ পরিবেশমন্ত্রীর

বিলুপ্তির পথে থাকা দেশীয় গাছ সংরক্ষণের নির্দেশ পরিবেশমন্ত্রীর

বিলুপ্তির পথে থাকা দেশীয় গাছ সংরক্ষণে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিটের গবেষকদের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

গতকাল সকালে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিটে (বিএফআরআই) অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি প্রায় হারিয়ে যাওয়া গাছগুলো নিয়ে গবেষণারও তাগিদ দেন। তিনি

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী। বিএফআরআই এর পরিচালক ড. খুরশীদ আকতারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফআরআই’র মূখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ড. মো. মাসুদুর রহমান।

মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের বাংলাদেশে অতীতে ছিল এবং বর্তমানে বিলুপ্তকৃত বা প্রায় নাই এমন গাছগুলোকে সংরক্ষণ করবেন, এগুলো নিয়ে গবেষণা করবেন। সেগুলোকে আমরা ধরে রাখতে চাই। এসব গাছ আমাদের পরিবেশের সাথে মানানসই এবং সামাজিকভাবেও এসব গাছের মর্যাদা আছে। তাই আপনারা দেশীয় এসব গাছকে আবার যেন বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়া যায় সে চেষ্টা করবেন। এসব গাছ যেন আমরা ফিরে পায় সে ব্যবস্থা করবেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বন গবেষণাগারে যেসব নতুন নতুন উদ্ভাবন করেছেন তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই গবেষণাগারের সুফল যেন সবাই পায়। এসময় বাঁশ নিয়ে বন গবেষণাগারের সাফল্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বাঁশ নিয়ে যে গবেষণা কার্যক্রম তাতে আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি। বাঁশ দিয়ে যে ফার্নিচার হয় সেটা টেকসই। এটাকে বাজারজাত করতে হবে। তাহলেই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে, বাঁশ দিয়ে শুধু বেড়া নই, ফার্নিচারও হয়। বাঁশ দিয়ে ঘরের দরজা, জানালা, চেয়ার-টেবিল তৈরি করা যায় সেগুলোও মানুষ জানতে পারবেন। তিনি বলেন, আপনারা যেসকল কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন সেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। সব এলাকার মানুষ যেন এটা জানতে পারেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান বনাঞ্চলকে আরো বৃদ্ধি করতে চায়। এইজন্য বন গবেষণাগারের গবেষণাকে আমরা কাজে লাগাতে চায়। এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে গবেষণাগারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের গবেষণা দেশের কাজে আসবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায়ও সফল হবো। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরো বলেন, আপনাদের নানাবিধ সমস্যা থাকতে পারে। আমাদের কাছে আপনাদের সমস্যা তুলে ধরবেন। সেগুলো দূর করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব।

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বনশিল্প, পরিবেশ, বন গবেষণাগার, রাবার বোর্ডসহ অনেকগুলো শাখা আছে। আমরা চাই, সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে নিতে। যার উপর যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব যেন আমরা সঠিকভাবে পালন করি। মন্ত্রী বলেন, বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে, বনের গাছ বিভিন্নভাবে কাটা হয়, অতীতের এমন অনেক অভিযোগ আছে। আমরা কিন্তু এসব পুরোপুরি বন্ধ করতে চায়। অবৈধভাবে বনে গাছ যেন কেউ কাটতে না পারে। সেজন্য যারা দায়িত্বে আছেন তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে বনকে রক্ষা করতে হবে। যদি বনের সুরক্ষা আমরা করতে পারি তাহলে আমরা আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে পারবো। তার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর মন্ত্রণালয়ের পক্ষে প্রথম বন গবেষণাগার দেখতে এসেছি এবং মুগ্ধ হয়েছি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, আমি সেই অঞ্চলের মানুষ, যেখানে আল্লাহর দেয়া সুন্দরবন আছে এবং সেটাকেই রক্ষা করতে পারি না। আপনারা (বন গবেষণাগারের গবেষকগণ) নতুন করে অনেক কিছু করার চেষ্টা করছেন, যেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে সেগুলোকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করছেন। এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এসময় মন্ত্রী বলেন, বন আছে সেটাকে খেয়ে ফেলা কঠিন কাজ না। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করাও কঠিন কাজ না। কিন্তু আপনারা সত্যিকারের কঠিন কাজ করছেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, এখানে বিভিন্ন ডিভিশনে কাজ করেন। এক ডিভিশনের সঙ্গে আরেক ডিভিশনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আমার কাছে কম মনে হয়। এটা দূর করতে হবে। কারণ, একটা রিসার্চ হয় সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। এককভাবে নয়। এখানে যে রিচার্স হয় তা সবাই মিলেমিশে করতে হবে।
বন মন্ত্রণালয়ের সচিব গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবন তার পেটেন্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পেটেন্ট না করলে অন্য কেউ এটা দাবি করতে পারে। পেটেন্ট করলে তখন অন্য কেউ সেই গবেষণা কাজে লাগালে আপনাদেরও আয় হবে। তিনি আরো বলেন, বন গবেষণা ইনস্টিটিউ একমাত্র নার্স সিস্টেমের মধ্যে ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান। নার্র্স সিস্টেমের সবগুলো প্রতিষ্ঠান কিন্তু স্বায়িত্বশাসিত। এই একটি প্রতিষ্ঠান কিন্তু পরিপূর্ণভাবে সরকারি। ফলে এখানে সরকারি নিয়ম-কানুন মানতে হবে এবং একইসঙ্গে আরো কিছু উদ্যোগের প্রয়োজন আছে।

বিএফআরআই এর পরিচালক ড. খুরশীদ আকতার বলেন, গবেষণার মাধ্যমে দেশের বন ও বনজ সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষনা পরিচালনা করা এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ ভোক্তাজনগোষ্ঠিকে পরিজ্ঞাত করার মিশন নিয়ে কাজ করছে বন গবেষণা ইনস্টিটিউট। তিনি বলেন, গত বছর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির ৯৫ শতাংশ পূরণ হয়েছে এবং এ বছর শতভাগ পূরণ করতে পারবো। তিনি বন গবেষণাগারের বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্যে বিএফআরআই’র মূখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন ও বনজ সম্পদের টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকের জন্য নিরাপদ করে রাখতে নিরস্তর গবেষণা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« জুলাই    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

ছবি ঘর