Friday, 20/9/2019 | : : UTC+6
Green News BD

বাঁশখালী-সাতকানিয়ায় ২১ পাহাড়ের মাটি যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়

বাঁশখালী-সাতকানিয়ায় ২১ পাহাড়ের মাটি যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়

চট্টগ্রামের বাঁশখালী-সাতকানিয়া চূড়ামণি ঢালা সড়ক দিয়ে গেলে দেখা যাবে ২১টি পাহাড় এক্সকাভেটর দিয়ে অবিরত কাটছে আর মাটি মজুদ করা হচ্ছে। কাটা পাহাড়গুলোর বুকে দুই বর্গকিলোমিটারে স্থাপন করা হয়েছে ১৭টি অবৈধ ইটভাটা।

পাহাড় থেকে কাটা মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে কাঁচা ইট। ফলে একসময়ের বিশাল পাহাড়ের চূড়া তলিয়ে গিয়ে পরিণত হয়েছে সমতলভূমিতে। এসব ভাটায় প্রকাশ্যে পুড়ছে বনের কাঠ। বিশাল বিশাল সবুজ পাহাড় ন্যাড়া হয়ে মরুভূমিতে রূপ নিয়েছে।

এসব ইটভাটার অদূরে রয়েছে বাঁশখালীর সাধনপুর বনবিট এবং সাতকানিয়ার চূড়ামণি বনবিট। ইটভাটার ধোঁয়ায় পাঁচ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ে সর্বশেষ যে কয়টি গাছ আছে, তাও মরতে বসেছে। সমতল যে ভূমি আছে, তাতেও উৎপাদিত হচ্ছে না মৌসুমি কোনো ফসল। পাহাড়ের বুকে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারাসহ বিবিধ গাছে ছড়িয়ে পড়েছে নানা রোগ। বননির্ভর জনগোষ্ঠী ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও নিষ্কৃতি পাচ্ছে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চোখের সামনে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে স্থাপন করা অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদেরও নেই কোনো ব্যবস্থা। প্রতিবছর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ইটভাটা মালিকদের ২০-৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। ন্যূনতম এই জরিমানা পরিশোধ করে ইটভাটা মালিকরা দ্বিগুণ উৎসাহে পাহাড় কাটে আর বনের কাঠ পোড়ায়।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক শাহ চৌধুরী বলেন, ‘ইটভাটার লাইসেন্স এবং ছাড়পত্র দেওয়া জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ, আমাদের দেখার বিষয় না। তবু এসব ইটভাটার প্রভাবে বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতির কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ের বুকে স্থাপিত সব ইটভাটা অবৈধ। এসবের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাহাড় কাটা ও কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি।’

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব অবৈধ ইটভাটার কোনোটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধ ভাটাগুলো ইট প্রস্তুত করে যাচ্ছে এবং নির্বিচারে বনের কাঠ পোড়াচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটাগুলোকে জরিমানা আদায় ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও ইটভাটার মালিকপক্ষ শুনছে না। কিছু ইটভাটা ছাড়পত্র চেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। তবে পরিবেশদূষণ, ভূমির উর্বরতা হ্রাস ও বন উজাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না বলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। অভিযোগ উঠেছে, ইটভাটা মালিকরা প্রশাসনের সঙ্গে গোপন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে বাধাহীনভাবে অবৈধ ভাটা চালিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের নিবন্ধন অনুযায়ী বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার এসব পাহাড়ের বুকে ২৭টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়ায় ২২টি ও বাঁশখালীতে পাঁচটি। তবে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার ঠিক পাহাড়ের বুকে দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৭টি ইটভাটা রয়েছে। এ ছাড়া বৈধ ইটভাটাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ এখনো পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করেনি। ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটাচ্ছে। ইটভাটাগুলোতে ড্রাম চিমনি ব্যবহার করায় গ্রামের বিভিন্ন ফলদ গাছে ফল ধরছে না। পাড়ায় পাড়ায় ধোঁয়া হয়ে বিভিন্ন গাছের পাতাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছে। এসব ইটভাটার পাশ দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রতিদিন যাতায়াত করলেও কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

সাতকানিয়া উপজেলার জামাল ব্রিকফিল্ডের মালিক জামাল উদ্দিন, বাঁশখালীর ইলশার এনবিএমের মালিক মো. জয়নাল আবেদীন এবং চৌধুরী ব্রিক ওয়ার্কসের মালিক মরতুজা আলী চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ইটভাটাগুলো অবৈধ হলেও আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে এক বছরের জন্য অনুমোদন নিয়েছি।’

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

সেপ্টেম্বর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« আগস্ট    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

ছবি ঘর