Friday, 20/9/2019 | : : UTC+6
Green News BD

সীতাকুণ্ডে অবাধে ফসলি জমির মাটি বিক্রি, হ্রাস পাচ্ছে মাটির উর্বরতা শক্তি

সীতাকুণ্ডে অবাধে ফসলি জমির মাটি বিক্রি, হ্রাস পাচ্ছে মাটির উর্বরতা শক্তি

প্রশাসনের নীরবতায় সীতাকুণ্ডে অবাধে চলছে ফসলী জমির মাটি বিক্রি। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভূমি খেকো চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিকাংশ কৃষককে লোভের ফাঁদে ফেলে জমির মাটি কিনে বিক্রি করছে। তাদের লোভের ফাঁদে পা দিয়ে বর্তমানে উর্বর ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রি করছে সীতাকুণ্ডের অধিকাংশ কৃষক। ফলে প্রতিনিয়ত উর্বর ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার কারণে উর্বরতা হারাচ্ছে জমিগুলো। অন্যদিকে মাটি কাটা অব্যাহত থাকায় উপজেলার অধিকাংশ জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে এবং খাদ্য শস্য উৎপাদন কমেছে আশংকাজনকভাবে।

সূত্রে জানা যায়, জমির মাটি উর্বর ও আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় কৃষি প্রধান এলাকা হিসাবে ইতিমধ্যে সীতাকুণ্ডের সুখ্যাতি ছড়িয়েছে সারা দেশে। বিভিন্ন ধরনের শাক-সব্জি, শিম ও ধান উৎপাদনের কারণে বর্তমানে উপজেলাকে খাদ্য ভাণ্ডার হিসাবে আখ্যায়িত করে অনেকে। বিশেষত শীতকালীন শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, তরমুজ- বাঙ্গি ও আউশ-আমন ধানের উৎপাদনে উপজেলার সাফল্য ঈর্ষনীয়।

মাটির উর্বরতা শক্তি ভাল হওয়ার প্রতিবছর উৎপাদিত হয় বাম্পার ফলন। বর্তমানে সীতাকুণ্ড উপজেলার কৃষি জমিগুলোতে ফসল উৎপাদন দেখে খোদ কৃষি বিভাগ এই মাটিকে স্বর্ণের সাথে তুলনা করেছেন। জানা গেছে, এক শ্রেণির ভূমি খেকোদের লোভের জালে নিজেকে জড়িয়ে চাষের পরিবর্তে মাটি বিক্রি করছে কৃষক। বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে ভাগ্য বদলানো উপজেলার হাজারো কৃষক বর্তমানে কিছু টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে মূল্যবান টপ সয়েল। উপজেলার অধিকাংশ জমিতে অবাধে মাটি বিক্রি চললেও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে তা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নড়ালিয়া, মাহামুদাবাদ, পৌরসদরস্থ দক্ষিণ রহমত নগর এলাকায় কৃষি জমি থেকে চলছে অবাধে মাটি বিক্রি। ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রির কারণে বর্তমানে গভীর ডোবায় পরিণত হয়েছে অধিকাংশ জমি। ইতিমধ্যে এ তিনটি এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ভূমি খেকো চক্র স্কেভেটর ও ড্রেজার লাগিয়ে মাটি কাটছে প্রতিনিয়ত। তাদের নির্বিচারে জমির মাটি কাটার কারণে বর্তমানে আশপাশের জমিগুলো ভেঙে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষকরা নিরুপায় হয়ে দলবদ্ধভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফকাত ফাহিম জানান, ফসল উৎপাদনে সবচেয়ে সহায়ক হচ্ছে জমির উপরিস্তরের মাটি।
কিন্তু স্থানীয় কৃষকরা না বুঝে জমির মাটি বিক্রি করার কারণে চাষাবাদে অপুরণীয় ক্ষতি করছে। এভাবে প্রতিনিয়ত টপ সয়েল বিক্রি করলে আগামী ২০ বছরেও ভাল ফসল উৎপন্ন হবে না জমিগুলোতে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, কৃষকরা না বুঝে যে ক্ষতি করছে তা অপূরণীয়। অবাদে ফসলী জমি থেকে মাটি বিক্রি রোধ করতে সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় পার পেয়ে যাচ্ছে ভূমি খেকো চক্র। বর্তমানে এই উপজেলার ফসলী জমি রক্ষার্থে কৃষকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

সেপ্টেম্বর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« আগস্ট    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

ছবি ঘর