Thursday, 17/10/2019 | : : UTC+6
Green News BD

অপচ্য প্লাস্টিক বর্জ্য রূপান্তর করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

অপচ্য প্লাস্টিক বর্জ্য রূপান্তর করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা পরিবেশে পচতে অথবা কারখানায় পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে প্রচুর সময় লাগে ৷ তাই একে “অপচ্য পদার্থ” বলা হয়। এই প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে৷ সাধারনত উদ্ভিদকূল, জলজ প্রাণী, দ্বীপ অঞ্চলের প্রাণীরা প্লাস্টিক বর্জ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে৷ প্লাস্টিক বর্জ্য ঐসকল প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহনের পথে বাধার সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, অন্যান্য প্রানী ও মানুষও প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ৷ থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য প্লাস্টিক দূষণ পরোক্ষভাবে দায়ী৷ এখন আশাব্যাঞ্জক খবর হচ্ছে এই প্লাস্টিকের বর্জ্যকে আমরা যদি রূপান্তর ঘটিয়ে  প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কোন পন্য পেতে পারি তা হবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বাণিজ্যিকভাবে উন্নতমানের জ্বালানি তেল তৈরির ব্যাপক সম্ভাবনার কথা বলছেন।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াস্ট টেকনোলজিস এলএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিজ্ঞানি দম্পতি ড. মইনউদ্দিন সরকার ও সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক ড. আনজুমান সেলী তাদের  ‘ন্যাচারাল স্টেট রিসার্চ ইনকরপোরেশন’ (এনএসআর) কোম্পানির মাধ্যমে নিউইয়র্কে ২০১০ সাল থেকে এই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে  পরিবেশবান্ধব ও সালফারবিহীন উন্নতমানের এনএসআর ফুয়েল (ডিজেল, কেরোসিন, এলপিজি) উৎপাদন করে আসছেন।  বিশ্বের ১৯৩টি দেশে বাণিজ্যিকভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশেও প্রকল্প স্থাপনে মাঠ যাচাইয়ের কাজ করছেন এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগেরও চেষ্টা করছেন।বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তারা কাজ করছেন।

বাংলাদেশেও প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল তৈরির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর দেশে যে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে তা থেকে উৎপাদিত জ্বালানি তেল গৃহস্থালি ছাড়াও ব্যবহার করা যাবে কারখানায়। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দূষণ প্রতিরোধ ও ক্রমবর্ধমান তরল জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, ভারতে প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে (প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে) তৈরি হচ্ছে ডিজেল ও কেরোসিন।এশিয়ার দেশগুলোতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকায় প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করেছি। এর মাধ্যমে এক টন বর্জ্য থেকে ১৩০০ লিটার তরল জ্বালানি, ১০ সিলিন্ডার এলপিজি ও ২৩ লিটার জেট ফুয়েল উৎপাদন করা যাবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্লাস্টিক বর্জ্যরে ভয়াবহতা রোধে উৎপাদন হ্রাস ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে জোর দেয়া হলেও তরল জ্বালানি তৈরির উদ্যোগ নেই। প্লাস্টিক বর্জ্যকে তরল জ্বালানিতে রূপান্তর করা গেলে পরিবেশ যেমন দূষণমুক্ত হবে তেমনি মহানগরীগুলোর ক্রমবর্ধমান জলাবদ্ধতার সংকটও কমে আসবে।প্লাস্টিক বর্জ্য প্ল্যান্টে শতভাগ উৎপাদন সম্ভব হলে দেশে প্রতিদিনের লক্ষাধিক টন জ্বালানি তেলের চাহিদার তিন শতাংশ পূরণ সম্ভব হবে। এ ছাড়া জলে-স্থলে জমে থাকা বর্জ্যরে অর্ধেকও কাজে লাগানো গেলে এক মাসেরও বেশি সময়ের জ্বালানি তেলের জোগান পাওয়া যাবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমী  বলেন, এটুআই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে ইতোমধ্যে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক বা পলিথিন বর্জ থেকে তরল জ্বালানি উৎপাদনে অর্থ সহায়তা দেয়া হলেও বাণিজ্যিকভাবে এখনো এমন কর্মকাণ্ড শুরু হয়নি এখনো তবে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

অক্টোবর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« সেপ্টে.    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

ছবি ঘর