Thursday, 17/10/2019 | : : UTC+6
Green News BD

পরিবেশের দূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধর নির্মানসামগ্রী

পরিবেশের দূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধর নির্মানসামগ্রী

পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই)। রাজধানীর এই প্রতিষ্ঠানে চার বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব সামগ্রী। এসব তৈরির ক্ষেত্রে প্রধান উপকরণ হচ্ছে নদীর তলদেশের খনন করা মাটি ও অল্প পরিমাণে সিমেন্ট। এইচবিআরআইয়ের সামগ্রীগুলোর মধ্যে রয়েছে মাটি ও সিমেন্টের সংমিশ্রণে তৈরি ইট, ভবনের মেঝে, ছাদ ও দেয়াল তৈরির উপকরণ হলো স্ল্যাব, বালু-সিমেন্টের কংক্রিট হলো ব্লক, পলি ব্লক, ড্রেজড মাটির ব্লক, মাটি-সিমেন্টের স্ট্যাবিলাইজড ব্লক, ফেরোসিমেন্ট পানির ট্যাংক, একতলা ভবনের খুঁটি, চাল প্রভৃতি। গত তিন বছর ধরে সচেতনতা তৈরিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সুইচ-এশিয়া কর্মসূচির আওতায় আমাদের সঙ্গে কাজ করছে অক্সফ্যাম ও অন্যান্য আরো প্রতিষ্ঠান যাদের সহায়তায় এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ও ব্যবহারে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে এইচবিআরআই।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দা গ্রামে একটা সমিতি পার্ক নির্মান করেছে। এই পার্কের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে একটি স্কুল ও একটি গ্রন্থাগার। দুটি ভবনের কোথাও মাটির পোড়ানো ইট ব্যবহার করা হয়নি। পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন ব্লক দিয়ে তৈরি হয়েছে এই ভবনদুটি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল শাহিন বলছিলেন পরিবেশবান্ধব ভবন গড়ে তোলার পেছনের গল্প। একদিন এক প্রকৌশলী বন্ধু তাঁকে পরিবেশবান্ধব ভবনের কথা জানান। বছর বছর রং করার দরকারও নেই। ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা থাকবে শীতল।খরচ কম ও পরিবেশবান্ধর এই কথাদুটি থেকেই এই ধরণের ভবন নির্মানের চিন্তা মাথায় আসে। দুটি ভবনের স্থপতি সাইদুল হক বলেন, ‘পার্কের ভেতরে পরিবেশবান্ধব দুটি ভবন নির্মাণ করতে অনেক ভালো লেগেছে। এরপর ওই এলাকায় আরও তিনটি এবং ঢাকায় দুটি ভবনের নকশা করেছি।’

এমনই আরো দুটি ভবন নির্মান করেছেন যশোরের পালবাড়ি এলাকার আবুল কালাম আজাদ। দুটিতেই ব্যবহৃত হয়েছে পরিবেশবান্ধব ব্লক। তাঁর ছেলে মামুনুর রশিদ থাকেন সিঙ্গাপুরে।এই ধরণের ভবন বানানোর কথা তাকে বলেন তার ছেলে। তার ছেলে ভারত থেকে আমদানি করেন ব্লক বানানোর যন্ত্র, সেই যন্ত্র দিয়ে তৈরি হয় ব্লক।

কুষ্টিয়ার বালু, পাথর আর সামান্য সিমেন্ট দিয়ে তৈরি এসব ব্লক রোদে শুকানো হয়, তারপর ভবন নির্মাণ করা হয়। এখন ব্লকের নাম দিয়েছি এইচএন কংক্রিট ব্লক। নদীর তলদেশের মাটি আর সামান্য পরিমাণ বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি রোদে শুকানো এসব ইট, ব্লক দিয়ে তৈরি হয়েছে এই ভবনগুলো। এইচবিআরআইয়ের পরিচালক প্রকৌশলী শামিম আখতার বলেন, ‘আমাদের তৈরি ভবনগুলো বৈজ্ঞানিকভাবেই টেকসই আর পরিবেশবান্ধব। দেশের সেরা স্থপতি আর পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে দীর্ঘ গবেষণা করেছেন। তারপর এই ভবন তৈরি করা হয়েছে।

বেসরকারি স্থাপনার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থাপনা তৈরিতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও পিরোজপুরে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে ভবন নির্মাণে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।

আমাদের দেশে এখন কনকর্ড, মীর সিরামিক, মিরপুর সিরামিক, খাদিম সিরামিকসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এ ধরনের পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী তৈরি করছে। উদ্দেশ্য একটাই, পোড়ামাটির ইটের ব্যবহার আর পরিবেশের দূষণ কমানো।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

অক্টোবর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« সেপ্টে.    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

ছবি ঘর