Friday, 20/9/2019 | : : UTC+6
Green News BD

স্বাস্থ্যখাতে পানিবাহিত রোগের নেতিবাচক প্রভাব

স্বাস্থ্যখাতে পানিবাহিত রোগের নেতিবাচক প্রভাব

Post by relatedRelated post

দুই বৎসর আগেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ হইতে দাবি করা হইয়াছিল যে, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের প্রায় ৮৫ শতাংশ ব্যয় হইতেছে পানিবাহিত রোগের চিকিৎসায়। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যখাতে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হইয়াছে। বাড়িয়াছে জনসচেতনতাও। তাহার পরও বিশেষজ্ঞদের অভিমত হইল, বর্তমানে পানিবাহিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হইতেছে স্বাস্থ্যখাতে মোট বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ। বরাদ্দের চার ভাগের তিনভাগই বিশেষ ধরনের রোগের পিছনে ব্যয় হইয়া যাওয়াটা কোনো শুভ লক্ষণ নহে। পানিবাহিত রোগের মধ্যে রহিয়াছে কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিস। এমনকি কিডনি ও লিভারের নানা জটিল রোগের জন্যও পানিকেই দায়ী করা হইয়া থাকে। মূলত পানির দূষণের কারণেই দেখা দেয় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ। আগে দূষিত পানির কারণে সংক্রামক রোগ ছড়াইলেও এখন বাড়িতেছে অসংক্রামক রোগের প্রকোপও। এখানেই আমাদের উদ্বিগ্ন হইবার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে। আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করিবার কারণে আর্সনিকোসিস নামে এক ধরনের বিশেষ রোগ হয় এবং এই রোগে আমাদের দেশে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটিতেছে। পানিবাহিত এই রোগগুলি প্রতিরোধ করিতে হইলে আগে পানির দূষণ বন্ধ করিতে হইবে। এই দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দায়দায়িত্ব রহিয়াছে। পানির দূষণ রোধের বিষয়টিকে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হইবে যাহাতে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ অন্য জটিল রোগ-ব্যাধির চিকিৎসা কিংবা জরুরি কোনো উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হইলেও এখানে বিশেষত গ্রীষ্মকালে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়া থাকে। এই সময় পানিদূষণের হার যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগও। দেশের উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, উত্তরাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি এবং শহরাঞ্চলে সরকারি-বেসরকারিভাবে সরবরাহকৃত পানিতে ব্যাকটেরিয়াসহ নানা ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতির কারণে পানি পানের অযোগ্য হইয়া দাঁড়ায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সামপ্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, রাজধানী ঢাকার ফুটপাত, বাসাবাড়ি এমনকি অফিস-আদালতে সরবারহকৃত ৯৭ ভাগ জারের পানিতে রহিয়াছে আর্সেনিক, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু ও উপাদানের উপস্থিতি। শুধু জারের পানিই নহে, কোনো কোনো কোম্পানির বোতলজাত পানিও দূষণমুক্ত নহে। ইহাছাড়া দ্রত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্প-কলকারখানার দূষণ, পানির পাইপ লাইন ছিদ্র হইয়া তাহাতে ময়লা-আবর্জনা ঢুকিয়া পড়া, ঠিকমত পানির ট্যাঙ্কি পরিষ্কার না করা এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি দূষিত হইতেছে। এই ব্যাপারে জনসচেতনতা যেমন দরকার, তেমনি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল ভূমিকাও কাম্য। আমরা জানি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) শর্ত অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করিবার কথা রহিয়াছে। সুতরাং অনতিবিলম্বে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যখাতের ওপর হইতে আর্থিক চাপ কমাইতে পানিদূষণ রোধে সমন্বিত পরিকল্পনা ও সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য হইয়া পড়িয়াছে।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

সেপ্টেম্বর 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« আগস্ট    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

ছবি ঘর