Sunday, 25/8/2019 | : : UTC+6
Green News BD

Gynura procumbens(গাইনুরা প্রোকাম্বেন্স), ডায়াবেটিসের মহৌষধ

Gynura procumbens(গাইনুরা প্রোকাম্বেন্স), ডায়াবেটিসের মহৌষধ

বৃক্ষকথা গ্রুপে বেশ কিছুদিন আগে গাইনুরা প্রোকাম্বেন্স গাছের একটা পোস্ট দেখার পরে বৃক্ষবন্ধু Abm Billal Hossain ভাই বলেছিলেন, “আমার কাছে আছে দিদি আপনি যদি চান একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমি ডাল থেকে গাছ করে আপনাকে দেব।”

সাথে সাথে আমি বললাম , ” ভাইয়া যদি সম্ভব হয় তাহলে ২টা দেবেন” উনি জানালেন কোন সমস্যা নেই আপনার জন্য ২টাই রাখবো।

মহানন্দে অপেক্ষা করতে করতে একসময় আসলে নিজেই ভুলে গিয়েছিলাম গাছের কথা। ভাইয়া কিন্তু গাছ করে নিজেই আমাকে মনে করিয়ে দিলেন, “দিদি গাছ কবে নিতে আসবেন?” গত শনিবার সময় দিয়েও যেতে পারিনি, তাই রবিবার যাবই যাবো, প্ল্যান করেই ফেললাম।
অবশেষে ভাইয়ার সাথে প্রথম দেখা হলো। আসলে এই গাছ ভালবাসার সুবাদে বৃক্ষকথার অনেক শ্রদ্ধেয় বন্ধুদের সাথেই আমার চাক্ষুষ দেখা হয়েছে, নানান সময়ে। খুব ভালো সময় কাটে এই বৃক্ষবন্ধুদের সাথে। আসলে সমমনা না হলে আমার সেখানে বেশিক্ষণ থাকতে ভাল লাগে না।

দূর থেকে আসলে কখনই জানা হতো না আমাদের বৃক্ষবন্ধু Abm Billal Hossain ভাই শুধু বৃক্ষপ্রেমিকই নন, উনি একজন বৃক্ষপাগল ও গবেষকও বটে। ওনার বাগানে ঘুরে আমি অবাক হয়ে গেলাম ওনার গাছের কালেকশন দেখে।একটা জমিতে উনি নামটা মনে নেই, এর এমনি ঔষধি গুণ আছে তাই একে রকেট গাছই বলা যায়, লাগিয়ে তিনধরণের মাটিতে। ভিনদেশি গাছ এদেশে আত্মীকরণ কিভাবে হবে তা রিসার্চ করছেন। যেহেতু এই সিজনে গাছপালা ভাল থাকে না, তাই এখনো তা ভালমত হয়নি। আশা করা যায় বর্ষাকালে বোঝা যাবে। গাছ দেখতে অনেকটা আমাদের সরিষা গাছের মত। ৩ ধরণের মিষ্টিআলু গাছ একসাথে লাগিয়েছেন, যা অনেকটা বিলুপ্তি হওয়ার পথে।
তারপর কলোনীর কোয়ার্টারে ছাদের ওঠার জন্য উনি নিজেই লোহা দিয়ে সিড়ি বানিয়ে সেখানেই তার রিসার্চ ছাদবাগান করেছেন।

ভাইয়ার কাছে জানতে চাইলাম “কবে থেকে এই বাগান শুরু করেছেন?”

উনি জানালেন “শুরু করেছি, সেপ্টেম্বর. ১৫ থেকে। দেশীয় অনেক প্রজাতির উদ্ভিদ যেগুলো বিলুপ্তির পথে কিন্তু আমাদের জন্য খুবই দরকারী সে সব সংগ্রহ করা, এবং দেশের বাইরের অধিক পুষ্টি সমৃদ্ধ, মূল্যবান ফল, সব্জি এসব সংগ্রহ করে আমাদের দেশে যদি চালু করা যায়, সে ভাবনা থেকেই আমি বাগান শুরু করি। কিন্তু এসব সব সময়ই সম্ভব হয় তা না, আমি যখন যেখানে যা পাই চেষ্টা করি সংগ্রহ করতে। সংগ্রহ খুব বেশী না হলেও আমি আশা করি দু’এক বছরের মধ্যে কিছু সংগ্রহ হবে।”

আমি বললাম “অবশ্যই হবে আপনি আসলে বৃক্ষপাগল, আমার মনে হল , নইলে এমন কষ্ট করে যে ছাদে উঠতে হয় সে ছাদেই গাছের গবেষণা করেন?”

ভাইয়া বললেন , “নিজের কাছে রাখার খুব জায়গা না থাকায়, এসব আমার মতো বৃক্ষ বান্ধব বন্ধুদের দিয়ে দেই।”

বললাম ” আমি কাল খুবই অভিভূত হয়েছি আপনার কালেকশন দেখে, আমাদের দেশজ কিছু দূর্লভ গাছও লাগাবেন যা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে যেমন সর্প গন্ধা, কুচ, কালোমেঘ”

ভাইয়া বললেন , ” এগুলো সংরক্ষনের জন্য সরকারী ভাল কোন ব্যবস্থা নেই। অথচ আমেরিকান রা ৫০০ বছরের জন্য সংরক্ষনের ক্ষমতা রাখে, তারা করছেও তাই। তারা আমাদের সহ অন্য দেশের ভাল উদ্ভিদ গুলোর জেনম কোড করে নিচ্ছে।
হ্যা, এসব কিছু কিছু আমাদের দেশের হার্বাল চিকিৎসকরা লালন করছে, যেগুলো কেউ সংরক্ষনে নেই, সেগুলো আমাদের সবাইকে কম বেশী সংগ্রহ করতে হবে।”

বললাম, ” আসলে আমাদের সবাইকে স্বেচ্ছায় এই কাজগুলো করতে হবে। ”

এবিএম বিল্লাল হোসেন ভাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে কাজ করছেন। ওনার কথা হলো, “গাছ পছন্দ করি। যা কিছু সংগ্রহের ইচ্ছে, শুধু দেশের ভাল’র জন্য। কৃষকদের উন্নতির জন্য।”

এবিএম বিল্লাল হোসেন ভাই বেশ কয়েকবছর ধরে ঘাড়ের কাছে হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন কিন্তু এজন্য গাছের জন্য কাজ করতে উনি কিন্তু পিছপা নন। মনের সাহস ও ভালবাসা দিয়ে নিত্যনতুন গাছপালা সৃষ্টি করছেন, গবেষণা করছেন। ওনার জীবনে একটা মিরাক্যাল ঘটুক, একজন গাছপাগল মানুষ শারিরীকভাবে সুস্থ হয়ে উঠুক।

যিনি মনে করেন আঙুরের বীজ খেয়ে ওনার কপাল আর মুখের টিউমার রিমুভ হয়েছে, নিশ্চয় একদিন কোন গাছের মাধ্যমেই ওনার ঘাড়ের হাড় ঠিক হয়ে যাবে এই শুভেচ্ছা নিরন্তর ওনার জন্য।

ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেশার শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে গাইনুরা প্রোকাম্বেন্স গাছের ২টি পাতাই । গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Gynura procumbens।এটা চীন এবং সুইজারল্যান্ডে স্থানীয়ভাবে ডান্ডালিউয়েন নামে ও বেশ পরিচিত।

খাওয়ার পদ্ধতিঃ চীন এবং সুইজারল্যান্ডের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে সম্পূর্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন এই এন্টি ডায়াবেটিস গাছটির ২টি পাতা/পাতার রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে সেবনে শুধু সুগার এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণই করে না তরতাজা রাখে কিডনি, লিভার। নিয়ন্তনে রাখে ব্লাড প্রেশার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

তবে ডায়াবেটিস ঔষধ সেবনকারীরা প্রথম ২ মাস ঔষধের পাশাপাশি সকালে খালি পেটে ২ টি পাতা সেবন করতে হবে।
আর ইনসুলিন ব্যাবহারকারী প্রথম ২ মাস সকালে খালি পেটে ২ টি পাতা ও রাতে শোবার আগে ২ টি পাতা সেবন করতে হবে।
২ মাস পর থেকে শুধু পাতা খেলেই চলবে।ঔষধ/ ইনসুলিন প্রয়োজন হবে না।

Sharing is caring!

Advisory Editor
Kazi Sanowar Ahmed Lavlu
Editor
Nurul Afsar Mazumder Swapan
Sub-Editor
Barnadet Adhikary 
Dhaka office
38 / D / 3, 1st Floor, dillu Road, Magbazar.
Chittagong Office
Flat: 4 D , 5th Floor, Tower Karnafuly, kazir deori.
Phone: 01713311758

পুরানো খবর

আগস্ট 2019
শনি রবি সোম বুধ বৃহ. শু.
« জুলাই    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

ছবি ঘর